পাবনার ঈশ্বরদীতে পূর্বশত্রুতার জেরে এক কৃষকের অর্ধ শতাধিক কলা গাছ কেটে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এতে প্রায় ৩৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী কৃষক জীবন ইসলাম ও তাঁর অংশীদার মো. জয় জানান, তাঁরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে দুই বিঘা জমি লিজ নিয়ে কলাবাগান করেছেন। চলতি বছর সেখানে প্রায় ৭০০টি কলাগাছ রোপণ করেন তাঁরা।
জানা গেছে, গত ২৪ অক্টোবর জীবন ইসলামের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে বিয়েসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একই এলাকার রতন আলী প্রামাণিকের ছেলে জালালী ইকরম অলির ঝামেলা হয়। একপর্যায়ে রাকিবুল ইসলাম অলিকে মারধর করেন বলে জানা গেছে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে অলির চাচা রয়েল প্রামাণিক রাকিবুল ইসলামকে মারধর করেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়।
জীবন ইসলাম ও তাঁর অংশীদারের অভিযোগ, ওই বিরোধের জের ধরে রাতের কোনো একসময় তাঁদের কলাবাগানের ৫০-৬০টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
জীবন ইসলাম বলেন, আমার ছোট ভাইকে মারধরের ঘটনা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে রয়েল, রতন, হাবিব ও অলির সঙ্গে ঝামেলা চলছিল। এ বিষয়ে আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। গতকাল সন্ধ্যা থেকেই তাঁরা আমার জমির আশপাশে ঘোরাঘুরি করেছেন। রাতে কোনো একসময় এসে আমার ৫০-৬০টি কলাগাছ কেটে ফেলেছেন। সুযোগ পেলে আরও গাছ কাটতেন। এলাকার লোকজন টের পাওয়ায় তা পারেননি। আমি প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
আরেক অংশীদার মো. জয় বলেন, আমি ও আমার খালাতো ভাই জমি লিজ নিয়ে এখানে কলাবাগান করেছি। কয়েক দিন আগে স্থানীয় রয়েল প্রামাণিকের সঙ্গে একটি ঝামেলা হয়। এর জের ধরে আমাদের ৫০-৬০টি কলাগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে ফসলের ক্ষতি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে আমাদের প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
স্থানীয় সিএনজিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, কলাবাগানটি তাঁর বাড়ির পাশে। রাতে তিনি কিছু শব্দ শুনে টর্চলাইট দিয়ে দেখার চেষ্টা করেন। তবে অন্ধকারের কারণে কিছু দেখতে পাননি। সকালে জানতে পারেন, কে বা কারা কলাগাছগুলো কেটে ফেলেছে। ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে কৃষকের ফসল নষ্ট করা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জালালী ইকরম অলি ও তাঁর চাচা রয়েল প্রামাণিক বলেন, একটি বিষয় নিয়ে রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে অলির ঝামেলা ও মারামারি হয়েছিল। পরে বিষয়টি জানতে পেরে রয়েল প্রামাণিক উভয়কে শাসন করেন। এ ঘটনায় তাঁরাও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
রয়েল প্রামাণিক দাবি করেন, তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে মারধর করা হয়েছে। তিনি অসুস্থ হয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন। তাঁদের দাবি, কলাগাছ কাটার সঙ্গে তাঁরা জড়িত নন। ভুক্তভোগীরা নিজেরাই পুরোনো কলাগাছ কেটে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। এর আগে দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। উভয় পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।