পাবনার ঈশ্বরদীর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ৬ দিন পর মামলা হয়েছে থানায়। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিপুল হোসেন বুদুকে।
এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন, উপজেলা তারুণ্য দলের যুগ্ম সম্পাদক রাব্বি মালিথা, যুবদল নেতা সাহান হোসেন, বিএনপি নেতা নসু প্রামাণিক, আরিফ হোসেন (ওরফে কালা আরিফ) ও মুকুল হোসেন।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে শরিফুল ইসলাম শরীফ থানায় উপস্থিত হয়ে এজাহার দাখিল করেন। পরে ওই রাতে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ এজাহার মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেন। মামলায় নামীয় ৬ আসামীসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ থেকে সাতজনকে করেছেন আসামি করা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিপুলের বাড়ি সাহাপুর গ্রামে। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের ছোট ভাই।
জানা যায়, গত ১৯ আগষ্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার জয়নগর শিমুলতলা বাজার থেকে প্রাইভেট কার চালিয়ে বাসায় ফিরছিলেন শরীফ। এসময় দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে গুলি চালায়। গাড়ির গ্লাস ভেঙে বুলেট তার চোয়াল ভেদ করে বেরিয়ে যায়। পরে তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সুস্থ হয়ে থানায় গিয়ে মামলা করেন তিনি।
শরীফের দাবি, হামলাকারীদের চিনতে পেরেছিলেন। তাদের সঙ্গে কোনো পূর্বশত্রুতা নেই। অন্য কারও নির্দেশে অর্থের বিনিময়ে তারা হামলা চালিয়েছেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবের ছোট ভাই বিপুল হামলার সময় উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে বিপুলের ভাষ্য, ‘ঈশ্বরদীর মানুষ আমাকে ও আমার পরিবার সম্পর্কে খুব ভালো করে জানে। আমার রাজনৈতিক জীবনে আমি কখনো হামলার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলাম না, আর এখনো নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তে তা প্রমাণিত হবে।’
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানালেন, ঘটনার রাত থেকেই আসামি শনাক্তের চেষ্টা চলছিল। মঙ্গলবার রাতে মামলাটি নথিভুক্ত হয়েছে। তদন্ত করে আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।