কৃষিই সমৃদ্ধি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পাবনার ঈশ্বরদীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ মৌসুমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তায় কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিস প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন ও উপকরণ বিতরণ করা হয়।

 কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৩ হাজার ২২০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও বিভিন্ন সবজি বীজ, রাসায়নিক ও জৈব সার, বালাইনাশক এবং লেবুর চারা বিতরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে উপজেলার মোট ১ হাজার ৬২ দশমিক ৬ একর জমিতে উৎপাদন জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আব্দুল মমিন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কর্মসূচির আওতায় ৫০০ জন কৃষককে জনপ্রতি ১ কেজি গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি সার, ১ কেজি বালাইনাশক এবং ২ কেজি পলিথিন দেওয়া হয়। লেবু বাগান স্থাপনের জন্য ২০ জন কৃষককে ৫টি করে উচ্চফলনশীল লেবুর চারা ও ৩০ কেজি জৈব সার দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা মেটাতে বসতবাড়িতে সবজি চাষের জন্য ২ হাজার ৭০০ জন কৃষককে খরিপ মৌসুমের বিভিন্ন শাকসবজির বীজের পাশাপাশি ১৫ কেজি ডিএপি ও ১৫ কেজি এমওপি সার বিতরণ করা হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আব্দুল মমিন বলেন, ঈশ্বরদী অঞ্চলে এর আগেও অফ-সিজনে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও লেবু চাষ করে কৃষকরা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। ভালো বাজারদর পেয়ে তারা লাভবানও হয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবার প্রণোদনার পরিধি বাড়িয়ে কৃষকদের নতুন করে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, কৃষিই দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে এবং দেশকে খাদ্য ও পুষ্টিতে স্বাবলম্বী করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সময়মতো বিনামূল্যে উন্নত জাতের বীজ ও সার ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকরা নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

আলোচনা সভা শেষে আমন্ত্রিত অতিথিরা সুবিধাভোগী কৃষকদের হাতে কৃষি প্রণোদনার বিভিন্ন উপকরণ তুলে দেন।