পাবনার ঈশ্বরদীতে স্কুল শিক্ষার্থীকে শাসন করার অভিযোগে ৩ শিক্ষিকাকে পিটিয়ে জখম করেছেন শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও স্বজনরা। এদের মধ্যে গুরুতর আহত এক শিক্ষিকাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) উপজেলার লক্ষীকুান্ডার চরকুড়ুলিয়া এলাকার সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতনে এ ঘটনা ঘটে।
এসময় অভিভাবক ও তাদের স্বজনদের আঘাতে আহত হন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামিমা নাসরিন (২৮),ঝর্ণা খাতুন সাথী (২৫) ও সেলিনা বেগম (৫০) । আহতদের মধ্যে শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথীকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করতেন।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে পাঠদানের সময় ওই বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থী জান্নাতুল খাতুনকে পড়া না পারার অভিযোগে শাসন করেন বিদ্যালয়ের পরিচালক সেলিম রেজা। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে তার মা লিপি থাতুন বিষয়টি জানলে সে এসে বিদ্যালয়ে চিৎকার-চেচামেচি শুরু করেন ও শিক্ষক- শিক্ষিকাদের দেখে নিবেন বলে সবাইকে হুমকি দিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পরেই শিক্ষার্থীর পরিবারের লোকজন চরকুড়ুলিয়া গ্রামের মৃত বক্কার মালের ছেলে উজ্জ্বল হোসেন মাল ও উজ্জ্বল হোসেন মালের ছেলে বাসির মাল লোকজন নিয়ে এসে উপস্থিত শিক্ষিকাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় প্রতিবাদ করায় শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথীকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টেনে হিঁচড়ে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যায়। এসময় ওড়ানো পেঁচিয়ে তার ফাঁস লাগে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন জানান, উজ্জ্বল হোসেন মাল বিদ্যালয়ে এসে বিদ্যালয়ের পরিচালক সেলিম রেজাকে না পেয়ে তিন জন শিক্ষিকাকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে শিক্ষা ঝর্ণা খাতুন সাথীকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মাটিতে ফেলে টানতে টানতে বিদ্যালয়ের বাহিরে নিয়ে যায়। সে সময় ওই শিক্ষিকা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
বিদ্যালয়ের পরিচালক সেলিম রেজা জাগো নিউজকে জানান, শিক্ষার্থী জান্নাতুল খাতুনের পড়া না হওয়ায় তাকে আমি শাসন করেছিলাম। এর কিছুক্ষণ পর জরুরী কাজে আমি বিদ্যালয়ের বাইরে চলে আসলে জান্নাতুল খাতুনের অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে হামলা চালিয়ে তিনজন শিক্ষিকাকে মারধর করেছে। এ বিষয়টি আমি থানা পুলিশকে অবহিত করেছি।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সালাহউদ্দিন ইউসুফ নিবিড় জানান, শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথীর অবস্থা এখন আশংকামুক্ত। সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ আশাদুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষিকাদের মারপিটের খবর শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
পড়া না পারায় শিক্ষার্থীকে শাসন, ৩ শিক্ষিকাকে পেটালেন অভিভাবক