পাবনাবাসীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে আগষ্টে। রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে একটি ট্রেন। ট্রেনটির প্রস্তাবিত নাম 'পাবনা এক্সপ্রেস'। নিঃসন্দেহে পাবনাবাসীর জন্য এটি একটি আনন্দের সংবাদ কিন্তু এই আনন্দের মধ্যে লজ্জাজনক সংবাদটি হলো ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে আসবে না ট্রেনটি। মাঝগ্রাম হয়ে চলে যাবে যমুনা সেতু লাইনে।
পাবনা জেলার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ঈশ্বরদী। এ উপজেলার পাকশীতে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের বিভাগীয় কার্যালয় অবস্থিত। যা সারাদেশের চারটি বিভাগীয় কার্যালয়ের মধ্যে অন্যতম এটি। ঈশ্বরদী শহরের লোকোশেডে লোকোমোটিভ কারখানা অবস্থিত।
এ উপজেলায় দেশের অন্যতম বৃহৎ রেল জংশনসহ রেল স্টেশন সংখ্যা ৬টি। ঈশ্বরদী জংশন, পাকশী স্টেশন, দাশুড়িয়া স্টেশন, রূপপুর নতুন স্টেশন, মুলাডুলি স্টেশন ও ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন। ঈশ্বরদী উপজেলাতে এতোগুলো রেলস্থাপনা যা দেশের অন্যকোন উপজেলাতে নেই। রেলের সববৃহৎ স্থাপনা ঈশ্বরদীতে থাকা সত্ত্বেও ঈশ্বরদী জংশনে পাবনা-ঢাকা রুটে চলাচলের জন্য প্রস্তাবিত পাবনা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি রাখা হয়নি। অথচ এই ট্রেনটির বেস ঈশ্বরদী। রাতে রক্ষণাবেক্ষণ হবে ঈশ্বরদীতে। ট্রেনটি প্রতিদিন শাটল হিসেবে ঈশ্বরদী থেকে ভোরে পাবনা যাবে ও রাতে পাবনা থেকে ঈশ্বরদী চলে আসবে।
রেলওয়ের শিডিউল বুক অনু্যায়ী, পাবনা হতে ছেড়ে যাওয়া প্রস্তাবিত পাবনা এক্সপ্রেস ট্রেনটির স্টপেজ টেবুনিয়া, দাশুড়িয়া, মাঝগ্রাম (ইঞ্জিন ঘুরানো), চাটমোহর, বড়ালব্রীজ, উল্লাপাড়া, শহীদ এম. মনসুর আলী, টাঙ্গাইল ও ঢাকা বিমানবন্দর।
ঈশ্বরদী শহরের মাঝখান দিয়ে যাওয়া রেললাইনের রেলগেটের কারণে ঈশ্বরদী শহর তথা অত্র অঞ্চলের মানুষ কি ভোগান্তিটাই না পোহায় প্রতিদিন। এই রেলগেটের জ্যাম ঈশ্বরদী শহরের একটি ক্যান্সার হয়ে যাচ্ছে। বাঘা, লালপুর, আরামবাড়িয়ার যাতাযাতের এই একমাত্র পথ কতটা ভয়ংকরভাবে জ্যাম হয় ঈশ্বরদী রেলগেট অংশে তা শুধু শহরের মানুষ উপলব্ধি করে। তবুও ঈশ্বরদী ট্রেন ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবহেলিত।
পাবনা থেকে ঈশ্বরদী স্টেশনে এসে আবার যমুনা সেতু লাইনে যাওয়া অনেকটা ঘুরে যাওয়ার রাস্তা। কিন্তু রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেন পোড়াদহ জংশনে লাইন এক্সচেঞ্জ করে ঘুরে ফরিদপুর হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকা যায়।
কালের বিবর্তনে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন হারিয়েছে, সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস, সুন্দরবন এক্সপ্রেস, পদ্মা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি, বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনসহ দুই ডজন আন্তঃনগর, মেইল ও লোকাল ট্রেন। এমন সব ট্রেন ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন হয়ে আগে ঢাকা যেত।
রাজশাহী এবং উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা গামী বললতা এক্সপ্রেস, লালমনিরহাট এক্সপ্রেস, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেসের মত ভালো মানের ট্রেনগুলো ঈশ্বরদী বাইপাসে স্টপেজ পায় না। কিন্তু এই ট্রেনগুলো ঈশ্বরদী বাইপাস হয়ে চলাচল করে।
ঈশ্বরদী পাবনা জেলা তথা উত্তরবঙ্গের একটি অন্যতম ডিপ্লোমেটিক ও ফিনান্সিয়াল অঞ্চল। কারণ ঈশ্বরদী শহর ঘেষে ইপিজেড, ডাল গবেষণা কেন্দ্র, সুগারক্রপ ইনস্টিটিউট। দেশের সব থেকে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে ঈশ্বরদীতে। ঈশ্বরদী বৃহৎ রেল জংশন থাকলেও এ জংশন থেকে ঢাকাগামী সরাসরি কোন ট্রেন নেই। খুলনা বা রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন এখানে যাত্রাবিরতি দেয় এবং এখান থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। কিন্তু ঈশ্বরদীবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি এখান থেকে একটি সরাসরি একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর। সেটি এখনো বাস্তবায়নতো দূরের কথা আলোচনার মধ্যেও নেই।
ঈশ্বরদী থেকে সরাসরি একটি ট্রেন চালুর দাবি পূরণ না হলেও পাবনা-ঢাকা রুটে আগামী আগস্টে চালু হচ্ছে পাবনা এক্সপ্রেস ট্রেন। এ ট্রেনটি ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন হয়ে চলাচল না করে মাঝগ্রাম হয়ে ঢাকা যাতায়াত করবে বলে শোনা যাচ্ছে। এটি ঈশ্বরদীবাসীর বড়ই দুঃখজনক ও কষ্টের খবর। পাবনা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন মাত্র তিন কিলোমিটার দূরত্ব দিয়ে ঢাকা চলে যাবে। এটি রেলের শহর ঈশ্বরদীতে যাত্রাবিরতি দিবে না এটি এ এলাকার মানুষের জন্য শুধু দুঃখের নয় রীতিমত লজ্জারও বটে।
দেশে একমাত্র ঈশ্বরদী আর সৈয়দপুর উপজেলার মানুষ নিজ উপজেলার নামে পরিচিত। তাদের জেলার পরিচয় দেয় না। সেই ঈশ্বরদী শহর এমন নতুন ট্রেন বঞ্চিত হয়। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কি হতে পারে।
প্রস্তাবিত 'পাবনা এক্সপ্রেস' (পাবনা-ঢাকা) ট্রেন এখনো চালু হয় নাই। রেল মন্ত্রনালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পাকশী বিভাগীয় রেল কর্তাদের বিরুদ্ধে এখনই ঈশ্বরদীবাসীকে রুখে দাঁড়াতে হবে। পাবনা-ঢাকা ট্রেন ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিতে কর্মকর্তাদের বাধ্য করতে হবে।