পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আসা ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাশিয়া থেকে ভারত হয়ে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে ইউরেনিয়ামের চালানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে সড়কপথে চালানটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হয়। শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তেজস্ক্রিয় জ্বালানিবাহী গাড়ি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করলে সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি ও রাশিয়ান কর্মকর্তারা চালানটিকে স্বাগত জানান।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম চালানটি গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। তবে রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসার পথে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে চালানটি আনা সম্ভব হয়নি। পরে জটিলতা কাটিয়ে নতুন সূচিতে শুক্রবার ইউরেনিয়াম দেশে আনা হয়।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা। এ সময়ে মোট ৯টি ফ্লাইটে প্রথম ইউনিটের জন্য বাড়তি ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি দেশে আনা হবে।

রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য এর আগে কয়েক ধাপে ইউরেনিয়ামের চালান দেশে আসে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়। এবার দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রথম চালান পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে ওই ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহের নতুন ধাপ শুরু হলো।

এদিকে, রূপপুরের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। সম্প্রতি ইউনিটটির সেফটি ভাল্বের ১৬ মেগাপ্যাসকেল উচ্চচাপ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ক্রিটিক্যালিটি পর্যায়ে যাওয়ার আগে আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। সব পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে শেষ করা গেলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।