পাবনার ঈশ্বরদীতে সাবেক সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ফরিদা ইয়াসমিন (৫৫) ও তার ছেলে ফিরোজ মাহমুদ (৩০)-কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. বকুল সরদারের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করেছেন ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী মো. আব্দুস সামাদ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে ঈশ্বরদী পৌরসভার পশ্চিম টেংরী পিয়ারাখালী এলাকার ছাত্তরের বোর্ডিং মোড়ে মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত বকুল সরদার অটোরিকশা দিয়ে তাদের পথরোধ করেন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে ধারালো হাসুয়া দিয়ে ফরিদা ইয়াসমিন ও তার ছেলে ফিরোজ মাহমুদের ওপর এলোপাতাড়ি কোপ দেন।
এতে ফিরোজ মাহমুদের মাথা ও বাম হাত এবং ফরিদা ইয়াসমিনের বাম হাতের কনুই ও কব্জিতে গুরুতর জখম হয়। হামলার সময় ফরিদা ইয়াসমিনের গলায় থাকা প্রায় ১০ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
আহত ফিরোজ মাহমুদ বলেন, আমরা অভিযুক্তকে চিনতাম। তবে তার সঙ্গে আগে কোনো শত্রুতা ছিল বলে আমার জানা নেই। আমরা মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ তিনি অটোরিকশা থামিয়ে ধারালো হাসুয়া দিয়ে আমাদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা করেন। আমি প্রতিহত করতে গেলে আমার হাতে ও মাথায় কোপ লাগে। মাথায় ৬ থেকে ৮টি সেলাই দিতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর স্থানীয়রা আমাকে ও আমার মাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে আমার মায়ের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনার শিমলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অপারেশন করা হয়েছে। বর্তমানে তার এখনো জ্ঞান ফেরেননি এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী মো. আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে অভিযুক্ত মো. বকুল সরদারের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। আসামি পলাতক রয়েছে। তবে তার অটোরিকশাটি জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।