বাংলাদেশকে বিশ্বমানের প্রযুক্তি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সেমিকন্ডাক্টর ও ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত রূপকল্প ‘Science to Economy’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, বরং বিশ্ব সেমিকন্ডাক্টর ও ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি ভ্যালু চেইনের অন্যতম প্রধান উদ্ভাবক ও প্রস্তুতকারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর নভোথিয়েটারে দুই দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড BEAR সামিট ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (BSIA) যৌথভাবে ২৫ ও ২৬ জুলাই এ সামিটের আয়োজন করে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব বলেন, “Science to Economy: Building a Market-Linked, Innovation-Driven Bangladesh”—এই কৌশলগত দর্শনকে সামনে রেখে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তিনি বলেন, একুশ শতকে নেতৃত্ব দেবে সেই দেশগুলো, যারা জ্ঞান সৃষ্টি, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ করবে।
তিনি জানান, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় চারটি কৌশলগত স্তম্ভের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—STEM উন্নয়ন, Research to Market (R2M), Innovation to Market (I2M) এবং Frontier Technologies।
STEM উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শক্তিশালী ও দক্ষ বিজ্ঞানী-প্রকৌশলী তৈরির জন্য ট্যালেন্ট পাইপলাইন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে গবেষণাকে শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্পের বাস্তব সমস্যার সমাধান ও অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টিতে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া উদ্যোক্তা, শিল্প ও বিনিয়োগকারীদের সমন্বয়ে বিশ্বমানের জাতীয় উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বায়োটেকনোলজি, রোবোটিক্স, স্পেস টেকনোলজি ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তির মতো ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজিতে অগ্রাধিকারমূলক কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব বলেন, সামিটে উঠে আসা সুপারিশ ও নতুন উদ্যোগের ভিত্তিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় অ্যাকাডেমিয়া, ইন্ডাস্ট্রি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করার জন্য একটি বাস্তবমুখী রোডম্যাপ প্রণয়ন করবে।
তিনি আরও জানান, এরই মধ্যে ন্যাশনাল বায়োটেক পার্ক এবং ন্যাশনাল এআই ইনস্টিটিউট (National AI Institute) প্রতিষ্ঠার মতো বেশ কিছু রূপান্তরমূলক উদ্যোগ পরিকল্পনায় রয়েছে।
বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা ও অঙ্গীকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মো. আনোয়ার হোসেন। পাশাপাশি সামিটে অংশগ্রহণকারী আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও অংশীদারদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি শুধু প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নয়, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমেও অর্জন করা সম্ভব।
বাংলাদেশকে ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত, উদ্ভাবননির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে দেশি-বিদেশি সব অংশীদারকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ জব্বার বক্তব্য দেন।
দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিবিদ, গবেষক, শিক্ষাবিদ, শিল্পোদ্যোক্তা, তরুণ উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (BSIA) প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।