দেশের প্রথম পারমাণবিক স্থাপনা পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব পারমাণবিক পরিবারে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ।
বুধবার রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবার্গে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ (আইএফওয়াই)-২০২৬’-এর ‘মিডিয়া স্ট্রিম’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে রাশিয়ার ভাবমূর্তি’ শীর্ষক প্লেনারি সেশনে এ মাইলফলকের কথা তুলে ধরেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক আন্দ্রে তিমোনভ।
আন্দ্রে তিমোনভ বলেন, রোসাটম বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক প্রযুক্তির অগ্রভাগে রয়েছে এবং উৎপাদন চক্রের প্রতিটি স্তরে বিশ্বমানের সমাধান দিয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার কারণেই প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
তিনি বলেন, এ বছর রোসাটম বাংলাদেশি অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম পাওয়ার ইউনিটের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে। চলতি গ্রীষ্মেই ইউনিটটির কমিশনিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিমোনভ বলেন, ‘আমরা একটি নতুন পারমাণবিক শক্তির উত্থান দেখছি।’ রূপপুর প্রকল্প শুধু বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে না, বরং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্যও শক্তিশালী গতি সৃষ্টি করবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে কম সময়ে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করতে পারবে।
বাংলাদেশে নিজের সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিমোনভ বলেন, তিনি অনেকবার বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং দেশটির প্রকৃতি ও মানুষের প্রতি মুগ্ধ হয়েছেন। তার মতে, বাংলাদেশ দ্রুত বিকশিত হচ্ছে, যদিও দেশটির ইতিহাস অত্যন্ত জটিল।
তিনি বলেন, মাত্র এক দশক আগেও বাংলাদেশে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার নিয়ে বাস্তব কোনো কার্যক্রম ছিল না। অথচ আজ দেশটিকে নতুন পারমাণবিক শক্তি হিসেবে স্বাগত জানানো হচ্ছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন তিমোনভ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও আবেগ রয়েছে। রাশিয়া ও বাংলাদেশ—দুই দেশেই বিপুলসংখ্যক তরুণ পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে শিক্ষিত হতে আগ্রহী হচ্ছেন।
তিমোনভ আরও বলেন, পারমাণবিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন কয়েক দশকের পুরোনো। সোভিয়েত ইউনিয়নের সময়েই বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ধারণা প্রথম উত্থাপিত হয়েছিল।
রূপপুর প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুধু জ্বালানি ঘাটতি পূরণের জন্যই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে না; বরং এর মাধ্যমে এমন একটি প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে, যা অনেক দেশ অর্জন করতে কয়েক দশক সময় নিয়েছে।
তিনি বলেন, রোসাটম বাংলাদেশে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে গিয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পটি এখন জাতীয় গর্বের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এটি এমন একটি স্থাপনা, যা নিয়ে পুরো দেশ গর্বিত।
এদিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘ফলো ইওর ড্রিম’ স্লোগান নিয়ে রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবার্গে ১১ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ (আইএফওয়াই)-২০২৬’। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। শেষ পর্যন্ত ১৯১টি দেশের প্রায় ১০ হাজার অংশগ্রহণকারী উৎসবে অংশ নেন।
বাংলাদেশ থেকেও প্রায় ৯০ জন প্রতিনিধি এ আন্তর্জাতিক যুব উৎসবে অংশ নেন।