পাবনা ও কুষ্টিয়াকে সংযুক্তকারী লালন শাহ সেতু এখন রেসিং ট্র্যাক ও আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটি বর্তমানে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালকদের দৌরাত্ম্যে যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সেতুতে প্রতিনিয়ত উচ্চ শব্দের সাইলেন্সার ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণ গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে রেসিং করতে দেখা যায়, এতে মাঝেমধ্যেই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
বেপরোয়া মোটরসাইকেল চলাচলের পাশাপাশি ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে সেতুর দুই পাশে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার এমনকি ইঞ্জিনচালিত অবৈধ যানবাহন থামিয়ে অনেকে ছবি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ আবার বিয়ের পর নতুন বউ ও পরিবার-পরিজন নিয়ে ফটোশুট করতেও আসেন। ফলে সেতুটি এখন পার্ক, পর্যটন কেন্দ্র কিংবা আড্ডার স্থানে রূপ নিয়েছে।
চালকদের অভিযোগ, এসব কারণে স্বাভাবিক যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সেতুর দুই পাশে হঠাৎ যানবাহন থামানো এবং মানুষের ভিড়ের কারণে চলাচলে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি উচ্চ গতিতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে অনেকেই যানবাহন থামিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীন এই ভিড়ের কারণে সেতু এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। একই সঙ্গে মাঝেমধ্যেই উচ্চ শব্দের সাইলেন্সার ব্যবহার করে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল রেসিং করতে দেখা যায় একদল চালককে।
এ বিষয়ে লালন শাহ সেতুর অপারেশন ম্যানেজার মো. আতিকুল হাসান প্রতিদিনের ঈশ্বরদীকে বলেন, এ বিষয়ে সেতু কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। দর্শনার্থীদের সেতুর ওপর থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তবে এক জায়গা থেকে সরিয়ে দিলে তারা আবার অন্য জায়গায় অবস্থান করছে, আবারও ভিড় করছে। এ নিয়ে মাঝেমধ্যেই বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে।
তিনি আরও বলেন, সেতুর ওপর বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল রেসিং ও অস্বাভাবিকভাবে যানবাহন চালানোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা বন্ধে নজরদারি বাড়ানো হবে এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ কিংবা যানবাহন থামিয়ে রাখার কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন মহলের দাবি, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেতু কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর নজরদারি জরুরি। অন্যথায় গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।