কোনো শহরে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন হলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘মেগা সিটি’ হয়ে যায় না। তবে এমন বৃহৎ ও কৌশলগত অবকাঠামো একটি শহরের অর্থনীতি, নগরায়ণ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এনে শহরটিকে দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে পারে। সেই বাস্তবতার অন্যতম উদাহরণ এখন পাবনার ঈশ্বরদী।

বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঘিরে গত কয়েক বছরে ঈশ্বরদীর চিত্র দৃশ্যমানভাবে বদলে গেছে। 

একসময়ের অপেক্ষাকৃত শান্ত জনপদে এখন বেড়েছে আবাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার পরিধি। দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের আগমনে এলাকাটিতে তৈরি হয়েছে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র।

ঈশ্বরদীকে আধুনিক শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর মেগা সিটিতে রূপান্তর করতে হলে যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি ঈশ্বরদী বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ইপিজেড, শিল্পাঞ্চল ও বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কারণে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়ীদের যাতায়াত দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিমানবন্দর চালু হলে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত হবে, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে এবং ঈশ্বরদীকে একটি আন্তর্জাতিক মানের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিনির্ভর নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘মেগা সিটি’ বলতে সাধারণত কয়েক মিলিয়ন বা এক কোটির বেশি জনসংখ্যার বৃহৎ নগর এলাকাকে বোঝায়। সেই বিবেচনায় ঈশ্বরদী এখনো মেগা সিটি নয়। তবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প, প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক নগরকেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা বলছেন, রূপপুর প্রকল্প চালুর পর এলাকায় জমির মূল্য বেড়েছে, নতুন নতুন আবাসিক এলাকা গড়ে উঠেছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধার উন্নয়ন ঘটেছে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে আগামী দশকে ঈশ্বরদী উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আধুনিক শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর শহরে পরিণত হতে পারে। তাই ‘মেগা সিটি’ না হলেও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে ঈশ্বরদী যে বাংলাদেশের দ্রুত পরিবর্তনশীল ও সম্ভাবনাময় নগরীগুলোর একটি সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কল্যাণে আগামী ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে পুরো ঈশ্বরদী এলাকাটি একটি 'মেগা সিটি' বা বড় শহরে পরিণত হবে। মেগা সিটি হওয়ার পাশাপাশি এই অঞ্চলে প্রচুর ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে উঠবে। বড় বড় উপশহর, মিল-কারখানা ও ইন্ডাস্ট্রি স্থাপিত হবে। এর ফলে স্থানীয় ছেলেমেয়েদের জন্য প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।