সেক্টর স্পেসিফিক বা খাতভিত্তিক বিষয় নির্ধারণ করে গবেষণা পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। 

তিনি বলেছেন, যেসব গবেষণা প্রকল্পের বাস্তব প্রভাব রয়েছে এবং যার ফলাফল জনকল্যাণে কাজে লাগানো সম্ভব, সেসব প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ ধরনের গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন দিতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) রাজধানীর বিজয় সরণিস্থ নভোথিয়েটারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত “২০২৪-২৫ অর্থবছরে গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) প্রকল্পসমূহে অনুদানপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালকগণের গবেষণা কার্যক্রম অবহিতকরণ বিষয়ক সেমিনার-২০২৬”-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব বলেন, ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে ভিয়েতনাম বাংলাদেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিল। কিন্তু গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতে গুরুত্ব দেওয়ার ফলে দেশটি বর্তমানে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন অর্জন করেছে। তিনি বলেন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, দেশের যেসব খাতে তুলনামূলক সুবিধা (কম্পারেটিভ অ্যাডভান্টেজ) রয়েছে, সেসব খাতে গবেষণার মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে হবে। গবেষণার ফলাফল জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করে উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার বিষয়টি গবেষকদের সবসময় মাথায় রাখতে হবে।

নভোথিয়েটারের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।

সেমিনারে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুল আহসান। অনুদানপ্রাপ্ত গবেষকদের পক্ষে বক্তব্য দেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল বাসেত। ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন এপেক্স ফুটওয়্যার, লেদার গুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্সের রিসার্চ পলিসি বিভাগের মাহমুদা সুলতানা।

এ সময় গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের প্রিন্সিপাল সায়েন্টিস্ট ড. রোকেয়া বেগম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইলিয়াস এবং বাংলাদেশ আনবিক শক্তি কমিশনের গবেষক টুম্পা সাহাসহ অন্যান্য গবেষক। উপস্থাপনা শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন গবেষকরা।

উল্লেখ্য, বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠন এবং বিজ্ঞান শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় প্রতি বছর গবেষণা ও উন্নয়নমূলক (R&D) প্রকল্পে অনুদান প্রদান করে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চারটি গ্রুপে মোট ৩৪৬টি প্রকল্পের বিপরীতে ২ কোটি ৯৭ লাখ টাকার গবেষণা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য একজন প্রকল্প পরিচালক সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান পেয়ে থাকেন।