বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী বলেছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি যুগান্তকারী প্রকল্প। এই প্রকল্পে বাংলাদেশের তরুণ বিজ্ঞানীরা সরাসরি কাজ করছেন এবং দেশের পারমাণবিক প্রযুক্তি সক্ষমতা বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত হচ্ছে।
রোববার ( ১৪ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্স মিলনায়তনে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে ফিউচার জেনারেশনের প্রজেক্ট। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্লান্টে আমাদের ছেলেরা বিজ্ঞানী হয়ে কাজ করছে। তারা নিউক্লিয়ার প্রযুক্তির মতো অত্যাধুনিক খাতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।
তিনি বলেন, পরিবর্তিত বিশ্ব বাস্তবতায় তরুণদের শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, প্রযুক্তির উদ্ভাবক ও নির্মাতা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য বিজ্ঞান শিক্ষা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্ক সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বর্তমান বিশ্বে যে জাতি জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনে যত এগিয়ে, সে জাতি অর্থনীতি, শিল্প, শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তত এগিয়ে। তাই বিজ্ঞানচর্চা কেবল একাডেমিক কার্যক্রম নয়, বরং একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম ভিত্তি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি বড় আবিষ্কারের শুরু হয় একটি ছোট প্রশ্ন থেকে। তাই প্রশ্ন করতে, পর্যবেক্ষণ করতে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নতুন কিছু আবিষ্কারের সাহস অর্জন করতে হবে। ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, বিশ্ব বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুগে প্রবেশ করেছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। তরুণদের আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান ও দক্ষতায় নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় উৎসাহ দিতে সরকার বিদেশে পড়াশোনার জন্য শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যেতে আগ্রহী মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বলেন, সফলতার জন্য দীর্ঘদিনের অধ্যবসায় প্রয়োজন। বিজ্ঞানীরা নিরলস গবেষণা ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে নতুন আবিষ্কার করেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন করার সাহস ও অনুসন্ধিৎসু মনোভাব গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সচিব বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তিধর দেশে পরিণত হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দেশের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন, যা দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি বড় অর্জন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. মনিরুজ্জামান স্বাগত বক্তব্য দেন। এসময় বিজ্ঞান ও গবেষণায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও গবেষক এবং বিজ্ঞানী -কে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
পরে মন্ত্রী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে আয়োজিত বিজ্ঞান মেলা পরিদর্শন করেন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ক্ষুদে ও তরুণ বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত প্রকল্প ঘুরে দেখেন।
উল্লেখ্য, “উদ্ভাবন নির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ১৪ থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ-২০২৬ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে সারা দেশের নির্বাচিত শিক্ষার্থী, গবেষক ও উদ্ভাবকরা অংশগ্রহণ করছেন।